শনিবার

৩০ মে, ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জঙ্গি অপবাদ নিয়ে এক দশক, অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত ৩ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬ ২১:০১

শেয়ার

জঙ্গি অপবাদ নিয়ে এক দশক, অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত ৩ শিক্ষার্থী
ছবি সংগৃহীত

জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাড়ে নয় বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। গত ২৪ মে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং কক্ষটি তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামবিষয়ক গ্রন্থ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, আদর্শ পরিবার পরিবেশ, পরকালের প্রস্তুতি এবং ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয় শীর্ষক গ্রন্থ।

রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনাটি তখন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিছু দিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া

জামিনের পর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

আইনজীবীর বক্তব্য

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি। কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ জব্দ করা হয়েছিল। জঙ্গিবাদের তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। পাশাপাশি এ মামলার পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর তিন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মামলার শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।



banner close
banner close