পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীতে কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ ও জবাই করতে গিয়ে গরুর লাথি ও গুঁতায় আহত হয়ে আজ সকাল থেকে আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছেঁড়ার মতো আঘাত নিয়ে তারা হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ১৫ ঘণ্টায় কোরবানিজনিত আঘাত ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে মোট ১৬৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৮৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিটোরের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জীবনানন্দ হালদার জানান, ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আহত রোগীরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। আজ কোরবানিজনিত কারণে আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত-পা কাটা ও কোমরে আঘাতের মতো রোগী বেশি এসেছেন। তিনি আরও জানান, গতকাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল এবং সেদিন দুজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
আহতদের মধ্যে তুরাগের বাসিন্দা মামুন তালুকদার গরুর গুঁতায় বাম হাতের দুটি আঙুল হারিয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জানান, গরু বাঁধতে গিয়ে দড়ি দেওয়ার সময় গুঁতা দিলে তাঁর হাত টিনের ওপর পড়ে এবং আঙুল দুটি কেটে যায়। মিরপুর ১ নম্বরের টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার মুফতি জানান, গরু ফেলার সময় পিচ্ছিল দড়ি ছেড়ে দিলে গরু হঠাৎ টান দেয় এবং তাঁর বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।
প্রতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিদের দ্বারা পশু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:








