বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
জীবনে প্রশান্তি পেতে মুমিনের যেসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি জামায়াত সেক্রেটারিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা সফল হবে না: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছেন পশারী; দাবি তার ভাইয়ের সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরসহ চার স্থানে হামলা; দাবি হুতিদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নতুন বার্তা মোজতবা খামেনির কুষ্টিয়ায় জামায়াতের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা, বাদ ইংল্যান্ড বাড়িতে গুদাম দেখিয়ে সারের ডিলারশিপ পেলেন যুবলীগ নেতা নজরুল

বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬ ১০:০০

শেয়ার

বৃষ্টির মধ্যেই শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত

মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে ভেজা ও কাদাময় মাঠেই সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে তা সম্পন্ন হয়।

জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, দুই মিনিট আগে দুইটি এবং এক মিনিট আগে একটি শর্টগানের গুলি ছুড়ে নামাজের সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়।

কিশোরগঞ্জের আকাশ কয়েকদিন ধরেই মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ঈদের দিন ভোরে বৃষ্টি না থাকলেও মুসল্লিরা জামাতে দাঁড়ানোর পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। তা সত্ত্বেও মুসল্লিরা নামাজ ত্যাগ না করে বৃষ্টির মধ্যেই ইবাদত সম্পন্ন করেন।

বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় আসেন। ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা মো. আলাউদ্দিন ১২ বছর ধরে এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করে আসছেন। কুলিয়ারচরের আলী আকবর সাইকেলে চড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই জামাতে অংশ নেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হয়।

২০১৬ সালে এই ঈদগাহে জঙ্গি হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবারও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ময়দান ও আশপাশে দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), শত শত পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও বৃষ্টির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পুরো মাঠ পরীক্ষা করে নিরাপদ ঘোষণা করে। পুরো ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের আওতায় রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা জামাতে অংশ নেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছিল এবং মুসল্লিদের সহযোগিতায় জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট ছিল এবং সামগ্রিকভাবে এটি একটি সফল আয়োজন।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে এখানে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন, যা থেকে এই ঈদগাহের নামকরণ হয় শোলাকিয়া। দেশের বৃহত্তম এই ঈদ জামাতটি প্রতি বছর লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।