ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার (২৪ মে) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।
মাদানী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ভিডিওটি কোনোভাবে সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। প্রায় আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে নিজের স্ত্রীকে গান শোনানোর সময় সিলেটের বাসিন্দা সাকালাইন শাফি নামের এক ব্যক্তি তাঁর অজান্তে ভিডিওটি ধারণ করেন। বিষয়টি টের পেলে সাকালাইন শাফি কসম করে বলেছিলেন, ভিডিওটি কখনো প্রচার করবেন না। মাদানী জানান, ওই ব্যক্তির কাছে নৌকাভ্রমণের আরও একটি ভিডিও ছিল এবং তখনও তিনি একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষিত হয়নি।
মাদানী আরও জানান, ওই বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনায় কষ্ট পেয়ে তিনি গত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। একাধিক আমন্ত্রণ পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এতদিন ঘটনাটি কাউকে জানাননি বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও উপহাসের বিষয়ে মাদানী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও কিছু বিরোধীপক্ষ এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁকে হেয় করার চেষ্টা করছে, যাতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে তাঁকে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী রাখা হয়েছিল এবং রিমান্ডে নির্যাতনসহ বিভিন্ন উপায়ে মানসিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে মাদানী বলেন, মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলা তাঁর লক্ষ্য এবং কোনো চাপ বা ট্রলের মুখে তিনি পিছু হটবেন না।
উল্লেখ্য, ভিডিওতে উল্লিখিত ব্যক্তি সাকালাইন শাফির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








