ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলুর রশিদ (৩৭) এবং একই উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মনোহর আলী (৩৫)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনোহর আলী প্রায় চার বছর আগে এবং বজলুর রশিদ দেড় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মরত ছিলেন। সোমবার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে সেগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত বজলুর রশিদ ও মনোহর আলী উভয়েরই স্ত্রী ও দুটি করে শিশুসন্তান রয়েছে।
মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, ঋণ করে তাঁর স্বামী ইরাকে গিয়েছিলেন এবং সেই ঋণ এখনো পরিশোধ হয়নি। পরিবার পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণপোষণ নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। মনোহর আলীর ভাই মিলন সর্দার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বজলুর রশিদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েলও তাঁর ছোট ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি জানান, নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক কর্মী জীবিকার সন্ধানে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যান। প্রবাসে কর্মরত এই শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন।
আরও পড়ুন:








