ভারতের গুজরাটে দীর্ঘ বছর বসবাসের পর সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা হারুন (৫২)। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে প্রবেশের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে আটক করে এবং পরে যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
হারুন ১৯৮৭ সালে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে যান এবং পরবর্তীতে সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দ্বৈত নাগরিক হিসেবে ভারতীয় পাসপোর্টও ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পাসপোর্ট ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করলে বিজিবি তাকে আটক করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সোপর্দ করে।
হারুনের বক্তব্য
গত সোমবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে হারুন জানান, ভারতে মুসলমানদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জীবন বাঁচাতে তিনি বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার প্রকৃত চিত্র গণমাধ্যমে যথাযথভাবে উঠে আসে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হচ্ছে। মসজিদ ও মাদরাসায়ও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হারুন বাংলাদেশের নাগরিক এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করতে তাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রাসঙ্গিক পটভূমি
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছে। গুজরাট, দিল্লি, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যটিতে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে বিএসএফ ক্যাম্পে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








