মঙ্গলবার

২৬ মে, ২০২৬ ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পুলিশের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ৩ পুলিশ সদস্য

বিশেষ প্রতিনিধি,বগুড়া:

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬ ১৩:৪৮

শেয়ার

পুলিশের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ৩ পুলিশ সদস্য
ছবি সংগৃহীত

বগুড়ায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্যের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের তিন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন, নাজিম ও মাহবুবকে পুলিশ লাইন্সে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে দুপুরে কনস্টেবল সুমন ও নাজিম নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় চতুর্থ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। পরে এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ফোনে ডেকে এনে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিকে ‘চোরাই’ দাবি করে ডিবি অফিসে নেওয়ার কথা বলেন।

একপর্যায়ে কনস্টেবল সুমন মোটরসাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে যান এবং নাজিম তানজিমকে সঙ্গে করে বের হন। তবে ডিবি অফিসে না নিয়ে তাকে শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকার একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে তানজিমের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে মারধর করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

পরদিন তানজিম ডিবি অফিসে গিয়ে মোটরসাইকেলের খোঁজ করলে পুরো ঘটনা ভিন্ন মোড় নেয়। ডিবির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এ ধরনের কোনো অভিযান তাদের পক্ষ থেকে পরিচালিত হয়নি।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, এপিবিএন ক্যাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রথমে কনস্টেবল সুমনকে শনাক্ত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে অপর দুইজনের নামও উঠে আসে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি মামলা করতে রাজি হননি। তবে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী তানজিম। তবে এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি শহীদ আবু সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জেলা পুলিশ তদন্ত করছে।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা আবু সায়েম বলেন, ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটমাট করেছে। তারপরও অভিযুক্তদের ওয়াচে রাখা হয়েছে।



banner close
banner close