মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি গরুবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ২৩টি কোরবানির গরু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী (৪৫) ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে রওনা হন। পথে পদ্মা সেতুর নিচে পৌঁছালে আকস্মিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা ২০ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ১৯ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আইয়ুব আলী নিখোঁজ হন। ট্রলারে থাকা ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র পাঁচটি জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৩টি গরু নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে।
মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদীতে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান শুরু করতে পারেনি। এছাড়া ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হবে।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রলারডুবির খবর পেয়ে লৌহজং ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে প্রচণ্ড ঢেউ, বাতাস ও স্রোতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে স্বজনরা নদীর তীরে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:








