পাবনাকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছেছে। গত ২৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রকল্প দুটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পের পটভূমি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ৬ এপ্রিল পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এই দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু পাবনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বর্তমানে আরিচা-দৌলতদিয়া ও কাজিরহাটসহ একাধিক নৌপথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। বিশেষত ঈদ, উৎসব ও কৃষি মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রশাসনিক অগ্রগতি
সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোতে থাকে। গত ১৩ মে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও চিঠি প্রদান করেন। পরদিন ১৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ১৮ মে বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়াম এবং সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস যৌথভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সম্ভাব্য প্রভাব
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৬ জেলার প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ফেরিনির্ভরতা হ্রাস, যমুনা ও পদ্মা সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমানো এবং বিকল্প সড়ক সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পাবনার ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য ও দুগ্ধখাতে পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, পাবনাসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতু বাস্তবায়িত হলে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পাবনা নয়, বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ এবং অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ অপরিহার্য। তাদের মতে, একটি সেতু বা ব্যারেজ নিছক নির্মাণ প্রকল্প নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জাতীয় যোগাযোগ কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি এখন কেবল স্থানীয় দাবি হিসেবে নয়, জাতীয় যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচনায় আসছে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:








