বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের জারি করা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বাঁশখালী উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অবৈধভাবে আহরিত মাছ সংরক্ষণে বরফ সরবরাহের অভিযোগে একটি বরফ কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বরফ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রোববার দিনব্যাপী এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বিত দল। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জলকদর খালের মোহনা ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে সাগরে অবৈধ মাছ আহরণে জড়িত কোনো চক্রকে আটক করা সম্ভব না হলেও জলকদর খালের তীরবর্তী কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ফাঁড়ির মুখ এলাকার শেখেরখীলে অবস্থিত মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নির্ধারিত মানমাত্রার পানি ব্যবহার না করে বরফ উৎপাদন করছিল। একই সঙ্গে উৎপাদিত বরফ নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
মোবাইল কোর্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মালিকপক্ষ বরফ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ অপরাধে মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় অভিযুক্ত বরফ কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনের প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন:








