বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬ ১৫:১৭

আপডেট: ২৪ মে, ২০২৬ ১৫:১৯

শেয়ার

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ
ছবি বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্বদেলুয়া এলাকায় সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি প্রশাসনের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড অপসারণ করেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পূর্বদেলুয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পূর্বদেলুয়া মৌজার জে এল নং-৮৪, এসএ খতিয়ান নং-২৫৯, আরএস খতিয়ান নং-৬৮, এসএ দাগ নং-১৬৫৮ এবং আরএস দাগ নং-৩১৬৩ ‘ক’ গেজেটভুক্ত প্রায় ২৯ শতাংশ সরকারি জমির মধ্যে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ নির্মাণকাজের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম, আইয়ুব আলী ও তাদের সহযোগীরা জড়িত। স্থানীয়দের ভাষ্য, অবশিষ্ট ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার দখলে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি একাধিকবার বড়হর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে জানানো হলেও প্রথম দিকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন এবং সেখানে একটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই সাইনবোর্ড অপসারণ করে পুনরায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। ইতোমধ্যে ভবনের একতলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাইনবোর্ড অপসারণের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে দখলদাররা আরও উৎসাহিত হয়ে দিন-রাত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে নোটিশ বোর্ড টানানো হয়েছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোটিশ বোর্ডটি খুলে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার নতুন করে নোটিশ বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নির্মাণকাজ অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বিতীয়বার সতর্কীকরণ বোর্ড স্থাপন করা হলেও নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



banner close
banner close