আগামী জাতীয় বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি এবং শিল্প রক্ষায় পাঁচ দফা দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা।
রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টায় পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধি, লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ির উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
মানববন্ধন শেষে শ্রমিকরা পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় ও শ্রমিকনির্ভর শিল্প। তাদের দাবি, অতীতে এ শিল্পের ওপর শুল্কের চাপ কম থাকলেও বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাজার পরিস্থিতির কারণে দেশের বহু বিড়ি কারখানা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে লক্ষাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বক্তারা আসন্ন বাজেটে বিড়ির ওপর নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শিল্পটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই নকল বিড়ি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের তামাকজাত পণ্যের বাজারের বড় অংশ নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে রয়েছে। ফলে বিড়ি শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি এবং লাইসেন্সধারী সব কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তারা।
পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হারিক হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর ও আবুল হাসনাত লাভলু, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম ইসলাম, সহ-সভাপতি রাণী খাতুন, যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী, প্রচার সম্পাদক দুলাল মোল্ল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল শেখ, কোষাধ্যক্ষ টোকন রায় এবং শ্রম সম্পাদক চামেলি খাতুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন:








