শনিবার

২৩ মে, ২০২৬ ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দশমিনায় প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ২০:১৩

শেয়ার

দশমিনায় প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মোসা. ছালমা আরফিন (৩৬) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর মানসিক চাপে থাকায় তার মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরঘূর্ণী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছালমা আরফিন মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. বশির বেপারীর স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের মেয়ে ছালমা আরফিনের সঙ্গে প্রায় ৯-১০ বছর আগে দশমিনার বাসিন্দা বশির বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বশির বেপারী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতেন এবং বছরে এক বা দুইবার দেশে আসতেন। তাদের সংসারে একটি আট বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় ২০ দিন আগে বশির বেপারী দেশে এসে আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। দেশে থাকাকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর ছালমা আরফিন অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

নিহতের শাশুড়ি কদভানু জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছালমাকে মোবাইলে কথা বলতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ছালমা নিজের পরনের কাপড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে দেন। পরে পুকুরে গিয়ে ফিরে এসে ছালমাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে দরজা ভেঙে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছালমাকে দেখতে পান।

খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের বাবা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী বিভিন্ন সময় মোবাইলে মানসিকভাবে চাপ দিত। কয়েকদিন আগে দেশে থাকাকালেও তাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছিল। হয়তো এসব কারণেই সে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close