লালমনিরহাটে টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় নদীটির পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শুক্রবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন, “শনিবার তিস্তার পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।”
তিস্তা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই তাদের বন্যার আশঙ্কায় থাকতে হয়। পানি বাড়তে শুরু করলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীপাড়ের জনপদে।
আদিতমারী উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ছকমল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে আমাদের অনেক সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কারণ, ভারত কখন গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেয় সেই শঙ্কা সবসময় থাকে। পানি ছেড়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যেই তিস্তা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।”
তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত গজলডোবা বাঁধ তিস্তা নদীর উজানে নির্মিত হয়েছে। ৫৪টি জলকপাটবিশিষ্ট এই বাঁধের মাধ্যমে নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, উজানে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
আরও পড়ুন:








