শনিবার

২৩ মে, ২০২৬ ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পাঁচ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ১০:৪০

শেয়ার

পাঁচ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও অন্তত ৪৬ শিশু এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭ শিশুকে। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যা শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতেও শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশকে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবে সেই অঙ্গীকার কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে যৌন সহিংসতার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা অনুপস্থিত। তাঁর মতে, অপরাধকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার মানসিকতা সমাজে গেঁথে যাওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনে মনস্তাত্ত্বিক বাধা অনুভব করছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান শিশু সুরক্ষায় পৃথক কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই কমিশন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, শিশু সুরক্ষার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম ও অগ্রাধিকারে কখনো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইউনিসেফের একটি শিশু অধিকার ইশতেহারে দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে শিশু নির্যাতনের এই ধারা রোধ করা সম্ভব হবে না।



banner close
banner close