বৃহস্পতিবার

২১ মে, ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কাছে ছোট সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ১৫:৫০

শেয়ার

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কাছে ছোট সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণ
ছবি সংগৃহীত

সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু দল ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত সদস্য বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণকালে তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা নেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা হলেন সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) এবং রামপালের মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার সুন্দরবন এলাকার নন্দবালা খাল সংলগ্ন স্থানে বাহিনীর সাত সদস্য প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এবং অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানে বিভিন্ন বনদস্যু দল কোণঠাসা হয়ে পড়ায় ছোট সুমন বাহিনী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার জানান, ২০১৮ সালে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের পর তিনি ব্যবসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে পুনরায় দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এবার সুযোগ পেয়ে আবার আত্মসমর্পণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের কাছে মামলা সহজীকরণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। অন্য সদস্যরা জানান, বনদস্যু জীবনে সর্বদা প্রশাসনের ভয়, মৃত্যুর আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হতো। কোস্ট গার্ডের এই সুযোগে তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের কবল থেকে ২০ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জোনাল কমান্ডার আরও জানান, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় সুন্দরবনের সব বনদস্যুকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায়, চলমান অভিযান আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন। কোস্ট গার্ড আরও জানায়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল চলমান অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে, তবে কোনো অপপ্রচারই সুন্দরবনে দস্যু দমন কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারবে না।



banner close
banner close