চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বলিয়ারপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভ্যাপসা গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য স্থানীয়রা মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও সংশ্লিষ্ট লাইনম্যানদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয়রা জানান , গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সন্ধ্যার দিকে কিছু কিছু গ্রামাঞ্চলে আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও নাগদাহ ইউনিয়নের বলিয়ারপুর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না। ফ্রিজে রাখা খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল চার্জ, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ ও দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে চরম সমস্যা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুন্সিগঞ্জ এরিয়া অফিসের সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। সামান্য কোনো ত্রুটি দেখা দিলেও তা সমাধানে এক থেকে দুই দিন সময় লেগে যায়। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মচারীর আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের পর সড়কের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন স্থানে সমস্যা সৃষ্টি হলেও দ্রুত তা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজনকে স্বেচ্ছায় সড়কের গাছপালা পরিষ্কার করতে দেখা গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যানদের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
ইমদাদুল হক নামে একজন জানান, বারবার অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে টানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র দোকানপাট ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুন্সিগঞ্জ এরিয়ার ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, লোকবল সংকট থাকা সত্ত্বেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে তাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন:








