বুধবার

২০ মে, ২০২৬ ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, শেরপুরে গ্রেপ্তার ২

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ১৯:৩৮

শেয়ার

প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, শেরপুরে গ্রেপ্তার ২
ছবি সংগৃহীত

শেরপুরে বোনকে কেন্দ্র করে প্রেমঘটিত বিরোধ ও অপমানের জেরে বন্ধু আলামিনকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৮ মে বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে নিহতকে আলামিন হিসেবে শনাক্ত করেন তার বাবা মো. সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিহত আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে শুভ নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও চাপা উত্তেজনা চলছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, একপর্যায়ে আলামিন শুভকে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য চাপ দেয়। এর মধ্যে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা চাইলে আলামিন পাল্টা শর্ত হিসেবে শুভর বোনকে কাছে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে অপমানিত বোধ করে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে রাজি করায়। গত ১৩ মে দুপুরে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে কৌশলে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে আলামিন মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে শুভ পেছন থেকে নাইলনের দড়ি গলায় পেঁচিয়ে ধরে এবং সম্রাট তাকে চেপে ধরে রাখে। পরে শুভ সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ ঘাসক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

পিবিআই জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান আসামি শুভকে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সহযোগী সম্রাটকে আটক করা হয়। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও নাইলনের রশি জব্দ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান আসামি শুভ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক শান্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে ছায়াতদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close