মালয়েশিয়া যাওয়ার চার লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে না পারায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২০ মে) সকালে সিঙারচড়া এলাকার স্বামীর ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা সপরিবারে আত্মগোপন করেছে।
বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য পূরবীর ওপর ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। দরিদ্র বাবার পক্ষে সর্বশেষ দাবিকৃত বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় খালি হাতে ফিরতেই এই নৃশংসতার শিকার হতে হলো এক সন্তানের জননীকে। এলাকা জুড়ে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, কোনো স্থায়ী পেশা না থাকা স্বামী চঞ্চল হালদার এর আগেও শ্বশুরের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। মঙ্গলবার (১৯ মে) টাকা আনতে পূরবীকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। দিনমজুর বাবার অপারগতার কথা জানিয়ে বুধবার সকালে স্বামীর বাড়ি ফেরার পরপরই ঘরের আড়ার সঙ্গে তার ঝুলন্ত দেহ মেলে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ভেদরগঞ্জ থানার পরিদর্শক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:








