রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক-কে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন হিরন।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে বিদিশা সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার ভাষ্য, “মামলা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। মামলার বিষয়ে কোনো আইডিয়া নেই।”
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুর রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন। এর অংশ হিসেবে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে বাদীকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:








