রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এস এন নজরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথাবিহীন দেহ খাটের নিচে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা বাথরুমে পাওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর সময় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড চলছিল। পুলিশের ধারণা, জাকিরকে পালাতে সহায়তা করতেই স্বপ্না দরজা খুলতে দেরি করেন। পরে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় এবং এরপর দরজা খোলা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলতেই মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি অভিযুক্ত।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে বিকাশে পাঠানো টাকা উত্তোলনের সময় জাকিরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার স্কুল-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট।
আরও পড়ুন:








