মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন শাহিন আলম বিদেশে পালিয়েছেন বলে ধারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ১৮:০১

শেয়ার

তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন শাহিন আলম বিদেশে পালিয়েছেন বলে ধারণা
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলার তদন্তে অগ্রগতি শুরু হলে তিনি দেশত্যাগ করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, শাহিন আলমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোর সর্বশেষ অবস্থান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। এরপর আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, শাহিন আলম কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন। চাকরির অল্প সময়ের মধ্যেই শারীরিকভাবে ‘আনফিট’ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশ ছাড়ার পর তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে অন্য একটি পক্ষ সেটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছে।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম তদন্তকালে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের নাম কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতে জমা দেন। বিচারক মুমিনুল হক-এর আদালতে দাখিল করা তালিকায় শাহিন আলমের নাম তিন নম্বরে রয়েছে। আদালত তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছে।

২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে মামলার তদন্তভার পায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে শুরু থেকেই নিহতের পরিবার অভিযোগ করে আসছিল, তদন্তে প্রকৃত সন্দেহভাজনদের আড়াল করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সালে অন্তত ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই ১৩ জনের কারও ডিএনএর সঙ্গে তনুর পোশাকে পাওয়া পুরুষের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।

যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য ছিলেন। তনুও ওই নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সেনানিবাসের ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তদন্তে বাইরের লোকজনকে হয়রানির শিকার করা হয়েছে।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। সম্প্রতি পাওয়া ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে আগের তদন্তের অসঙ্গতির সত্যতা মিলেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের ১৩ জনের কারও ডিএনএর সঙ্গে আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।

এদিকে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের পর। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এর ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সন্দেহভাজন শাহিন আলমের অবস্থান সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।



banner close
banner close