মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশ ও লাঠি বাঁশি বাহিনীর যৌথ টহল জোরদার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ২২:৫২

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে পুলিশ ও লাঠি বাঁশি বাহিনীর যৌথ টহল জোরদার
ছবি বাংলা এডিশন

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরু চুরি প্রতিরোধে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে গঠিত লাঠি বাঁশি বাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গ্রামে গরু চুরি, ডাকাতির হুমকি এবং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে লুটপাটের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বিশেষ নজরদারি শুরু করে। বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লার প্রবেশমুখে বাঁশকল স্থাপন, চেকপোস্ট বসানো এবং রাতভর টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে রঘু ডাকাত পরিচয়ে রক্তমাখা চিঠি পাঠিয়ে গরু চুরি, ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু টেকুয়াপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি গ্রামবাসীদের হাতে টর্চলাইট ও বাঁশি তুলে দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে গঠিত লাঠি বাঁশি বাহিনী যৌথভাবে গ্রামে টহল শুরু করে। অনুষ্ঠানে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আবু সাঈদের বাড়ি থেকে গরু লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হলে দুর্বৃত্তরা তার মেয়ে, প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুনকে হত্যার হুমকি দিয়ে রক্তমাখা চিঠি দেয়।

এ ছাড়া চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ির সদস্যদের অচেতন করে টেকুয়াপাড়া গ্রামের আবু হোসেনের বাড়ি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের ঘটনায় আলহাজ মো. আমজাদ হোসেনের বাড়ির শোকেজের লকার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ ভরি রুপার গহনা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আলহাজ মো. আমজাদ হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরে প্রবেশের পর তিনিও এক ধরনের স্প্রের গন্ধে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন, ঘরের লকার ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আবু হোসেন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে তার ঘর থেকে একটি ষাঁড় গরু চুরি করা হয়। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনাগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ তৎপরতা বাড়ায়। গ্রামে গ্রামে বাঁশকল স্থাপন, চেকপোস্ট বসানো এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে লাঠি বাঁশি বাহিনী গঠন করা হয়। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ টহলে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

তবে অভিযোগ দায়েরের চারদিন পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া টাকা ও গহনা উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আলহাজ মো. আমজাদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের মোটরসাইকেল টহল, পেট্রোল ডিউটি ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পাহারা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ পর্যন্ত এ নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



banner close
banner close