আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। দাবি আদায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ করে কোন সুরাহা না পেয়ে তারা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
সোমবার দুপুরে ঢাকা ইপিজেড পুরাতন জোন গেটের সামনে বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্টর স্পোর্টিং, সাউথ চায়না লিঃ, গোল্ডট্রেক্স গার্মেন্টস লিঃ এবং গোল্ডট্রেক্স ট্রেক্সটাইল লিঃ এর সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এই মানববন্দনে অংশগ্রহণ করেন।
শ্রনিকরা জানান, গত বছরের শেষের দিকে এই পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও কতৃপক্ষ নিয়ম মাফিক বকেয়া বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করেনি। এ বিষয় নিয়ে ডিইপিজেড কর্মকর্তাদের সাথে বার বার মিটিং করা হলেও তারা কোন সুরাহা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় তারা খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছে। তাই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
এবিষয়ে এক কর্মকাতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানি আমাদের কোন বেতন দেয়নি। এসময় ইপিজেড কতৃপক্ষ আমাদের এবং শ্রমিকদের বার বার আশ্বস্ত করছে আপনার কাজ চালিয়ে যান কোম্পানি বেতন না দিলে আমরা নিদিষ্ট সময়ে তোমাদের বেতন দিয়ে দেব। তার পরে ডিসেম্বরের এক তারিখে হঠাৎ করে ফ্যাক্টরী বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করছে তাদের কোন প্রকার টাকা দেয়নি। তখন ইপিজেডের ইডি স্যার আমাদের বলেছে, কোম্পানি পাওনা দিলে সরকারি নিয়ম মত এক মাসের মধ্যে ইপিজেড কতৃপক্ষ সমস্ত পাওনাদি পরিশোধ করবে। এরপর থেকে আমরা ইপিজেডের সাথে বার বার যোগাযোগ করেছি। তার আমাদের কোন পাওয়াদি পরিশোধের কোন প্রতিশ্রুতি দেয়ইনি বরং তারা কোম্পানির বিভিন্ন দোহাই দিচ্ছে। তারা বলেছিল নতুন সরকার আসলে যোগাযোগ করতে আমরা তাই করেছি এখনো তার আমাদের কোন আস্বস্ত করতে পারেনি। আমরা শ্রম মন্ত্রনালয়, বেপজা এবং বিজিএমইএ স্মারকলিপি দিয়েছি সেটাও অদ্যাবদি কোন জবাব নাই। এ ব্যপারে ইপিজেড আমাদের কোন সহযোগিতা করছে না। আজ দশ মাস হয়ে গেলো আমরা কোন সুরাহা পাচ্ছি না। শ্রমিকরা খুব অসহায় অবস্থায় আছে, সংসার চালাতে পারছে না। পাওনা টাকা পেলে তবু তারা একটা কিছু করতে পরতো। আমাদের চাওয়া ইপিজেড আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা নিক।
এব্যপারে অসহায় এক শ্রমিক জানান, আমাদের চাকরি চলে যাওয়াতে আমরা খুব কষ্টে মধ্যে আছি। আমরা আমাদের সংসার চালাতে পারছি না, বাসা ভাড়া দিতে পারি না, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারিনা। বেকার অবস্থায় আছি, আমাদের যে বয়স এ বয়সে আমরা কোন চাকরি নিতে পারছি না। কোম্পানি যদি আমাদের পাওনা দিয়ে দিত তাহলে আমরা অনন্ত একটা অটো কিনে বা কোন ছোট খাট ব্যবসা করে সংসার চালাতে পারতাম। তাই ইপিজেড কতৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন কোম্পানি যেন আমাদের তাড়াতাড়ি সব বেতন ভাতা বুঝিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:




.jpg)



