সোমবার

১৮ মে, ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ২০:১৯

শেয়ার

টাঙ্গাইলে রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আয়েশা বেগম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি ও তার স্বামী রাস্তার ইট সরিয়ে বাড়িতে ব্যবহার করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি সদস্য। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি কাবিটা’র আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিংয়ের কাজ করা হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাশের প্যারাজানি বিলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ও রোপা ধানের আবাদ হয়। কৃষিকাজ এবং ফসল পরিবহনের জন্য এই সড়কই এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সড়কটি সংস্কার করে।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম বলেন, প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম এবং কাজের দায়িত্ব পান তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। প্রায় দুই মাস আগে তারা দিনের বেলায় রাস্তার ইট খুলে ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যান। স্থানীয়রা কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা করা হবে এবং ইট খোয়া তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। পরে সেই ইট দিয়ে বাড়িতে বাথরুম ও পাকা পায়খানা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার কারণে বর্ষায় সড়কের মাটি ধসে পড়ছে। এতে কৃষকদের মাঠ থেকে ধান পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল বলেন, সরকারি টাকায় নির্মিত রাস্তার ইট তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার নির্মাণকাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যের স্বামী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই অর্থবছরে ইউনিয়নের চারটি সড়কের কাজ শেষে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল। সেই ইট দিয়েই বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশাসন অতিরিক্ত ইট ফেরত চায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামের কিছু লোক রাতে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। রাস্তার ইট ব্যবহার করে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, সড়কটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।



banner close
banner close