শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকায় কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম মাদারপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাহালম, শরিফ, শামিম, নজরুল, আজিরন , হাজেরাসহ আরও অনেকে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মাদারপুর এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী আহত হন। এসময় আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে এ বিষয় নিয়ে আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল আমিন সেখানে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন রাতেই নূরুল আমিন ও তার সমর্থকরা আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং একটি ভ্যানগাড়িসহ বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে আশরাফুল ও নূরুল আমিনের ছেলের মধ্যে ফের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী নূরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ইউপি সদস্য নূরুল আমিন ও কালু মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও দুজন সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন:



.jpg)




