সোমবার

১৮ মে, ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য, মিলল আরও এক সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ০৭:৫০

শেয়ার

তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য, মিলল আরও এক সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ নিয়ে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে পাঠানো এক চিঠির জবাবে প্রায় এক মাস আগে তাকে জানানো হয়, তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এটি পুরোপুরি নতুন কোনো তথ্য নয়। ২০১৭ সালে তিনজনের ডিএনএ তথ্য সামনে এলেও এখন নতুন করে আরেকজনের রক্তের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। দীর্ঘ তদন্তের পরও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত ছয় দফায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। পরে ২৫ মার্চ তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মনজুর আলমকে। একই বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট সিআইডির নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি চার বছরের বেশি সময় মামলাটি তদন্ত করেন। পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মজিবুর রহমান। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রোববার পর্যন্ত ওই পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close