প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরুর ভগ্নিপতি মান্নান দেওয়ানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে গিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা এডিশনের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান জিলানী। রোববার (১৭ মে) দুপুরে কালিয়াকৈরের সূর্তাপুর ইউনিয়নে মান্নান দেওয়ানের নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর ভাগনে রিফাতসহ কয়েকজন ওই সাংবাদিককে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে মাহবুবুর রহমান জিলানী রোববার সরেজমিনে কালিয়াকৈরে গিয়ে মান্নান দেওয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মান্নানের নির্মাণাধীন বাড়ি দেখতে গেলে সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পথে প্রতিমন্ত্রীর ভাগনে রিফাতসহ একটি সংঘবদ্ধ দল তাঁকে আটকে দেয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।
হামলাকারীরা সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে নগদ অর্থও নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সাংবাদিককে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তিনি কালিয়াকৈর থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরুর ক্ষমতার প্রভাবে মান্নান দেওয়ান অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুরে সাত তলা ভবন নির্মাণ করছেন তিনি, যার একতলা সম্পন্ন হয়েছে এবং সাত তলার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
মান্নান দেওয়ান বাংলা এডিশনকে জানান, জমি ও গাড়ি বিক্রির অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন তিনি। তবে তাঁর আপন চাচাতো বোন জানান, মান্নান বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নিয়োজিত কিনা, তা তাঁর জানা নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, মান্নানের নামে কোনো জমিজমা নেই বলেই তিনি জানতেন। মান্নানের ভাবীও ইঙ্গিত দেন যে, প্রতিমন্ত্রীর ভগ্নিপতি হওয়ার কারণে তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ করতে হয় না।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মান্নান দেওয়ানের বিরুদ্ধে মাদক ও নারী ব্যবসা এবং চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:








