রবিবার

১৭ মে, ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিভক্ত হেফাজতে ইসলাম, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬ ১২:২৮

শেয়ার

বিভক্ত হেফাজতে ইসলাম, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি সংগৃহীত

দেশের আলোচিত কওমি মাদরাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক স্থবিরতা, নেতৃত্বের দূরত্ব এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভাজনের কারণে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া সংগঠনটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবেশেও পূর্ণাঙ্গ ঐক্যে ফিরতে পারেনি। তবে সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, বিভাজন কাটিয়ে আবারও ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ চলছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি মাদরাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ভোলা জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে বহিষ্কার করা হয়। একই বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী বিভাজন নিরসনে গঠিত সাব-কমিটি ১১ দলীয় ঐক্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসাকেন্দ্রিক কওমি আলেমদের উদ্যোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠিত হয়। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে সংগঠনটি অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবিতে সমাবেশের পর সংগঠনটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন শুরু হয়। সংগঠনের নেতাদের দাবি, ওই ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালে কওমি সনদের স্বীকৃতি উপলক্ষে আয়োজিত শোকরানা সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেওয়ার ঘটনায় সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। এরপর ২০২০ সালে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব পরিবর্তন, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে হেফাজতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্তমানে সংগঠনের একটি অংশ বিএনপিপন্থী এবং আরেকটি অংশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা সরাসরি অংশ নেওয়ায় সংগঠনের অরাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে সাব-কমিটি কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে এবং হজের পর সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম জোরদার হতে পারে।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ বলেন, অনেক নেতা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে হেফাজতের মূল ধর্মীয় আদর্শ ও ঐক্য বজায় রাখতেই শীর্ষ নেতারা আলোচনায় বসেছেন।

নায়েবে আমির আল্লামা মুহিউদ্দীন রাব্বানী জানান, বিভিন্ন ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সবাইকে নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ১৩ দফা ও ধর্মীয় ইস্যুতে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংগঠনটির প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ আমলের মামলা প্রত্যাহার, শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কওমি আলেমদের শিক্ষক নিয়োগ এবং পূর্বঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়ন। নেতারা আশা করছেন, পবিত্র হজের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় হবে।



banner close
banner close