রবিবার

১৭ মে, ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অপহরণ আতঙ্কে টেকনাফের পাহাড়ি জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬ ০৭:০০

শেয়ার

অপহরণ আতঙ্কে টেকনাফের পাহাড়ি জনপদ
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় একের পর এক অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে বাহারছড়ার নোয়াখালী এলাকা থেকে হোছেন আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় অপহরণকারী চক্রের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

অপহৃত হোছেন আলীর স্ত্রী রুজিনা বেগম জানান, গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে। দরজা খোলার পর অস্ত্রধারী ছয়জন ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে এবং পরে হোছেন আলীকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়সংলগ্ন জনপদগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার ও বিদেশফেরত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল কমে গেছে। নারী ও শিশুদের মধ্যে ভীতি আরও বেশি কাজ করছে।

নোয়াখালী এলাকার বাসিন্দা শাকের আহমদ বলেন, কয়েক বছর ধরে এলাকায় অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় মুদি দোকানি আবদুল নবী জানান, রাতে সামান্য শব্দ হলেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এলাকা ছাড়ার কথাও ভাবছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা ওমর ফারুক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে প্রবাসীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। এতে অনেকেই আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ মে নোয়াখালীপাড়া ব্রিজ এলাকায় অপহরণের চেষ্টাকালে শহীদ উল্লাহ (১৯) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুমাইয়া নামে এক তরুণী নিহত হন। একই সময়ে পাহাড়ি এলাকা থেকে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৯৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই ৯৫টি ঘটনায় অন্তত ১৪০ জনকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতদের মধ্যে ৮৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিক ছিলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুক্তিপণ দিয়ে ভুক্তভোগীরা ফিরে এসেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ এখন সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত যৌথ অভিযান ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদার করা জরুরি।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত হোছেন আলীকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাহাড়ি এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।



banner close
banner close