নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বসুনিয়া হাটে পশু বিক্রির রশিদে নির্ধারিত ইজারা মূল্য উল্লেখ না করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। এছাড়া মসজিদের নামে চাঁদা তুললেও সেই টাকা মসজিদে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিবাদ করায় এক যুবককে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাটে মসজিদের নামে অতিরিক্ত চাঁদা তোলা হলেও সেই টাকা মসজিদে দেওয়া হয় না। হাটে কোথাও নির্ধারিত ইজারা মূল্যের তালিকা টাঙানো নেই। অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়া হলেও রশিদে তা উল্লেখ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বসুনিয়া হাট জামে মসজিদের সহকারী সেক্রেটারি মো. আহেদ আলী বলেন, “প্রতি হাটে মসজিদের নামে অতিরিক্ত চাঁদা নেওয়া হলেও মসজিদে কোনো টাকা দেওয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান হয়নি।”
রশিদে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় মমিনুর নামে স্থানীয় এক যুবক মারধরের শিকার হন। এ সময় মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ তুলে তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ফুলবাড়ি থেকে আসা গরু বিক্রেতা রহিদুল ইসলাম বলেন, “গরু বিক্রির পর আমার কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারি নির্ধারিত ইজারা ৬০০ টাকা।”
ডোমারের পাঙ্গা মটকপুর থেকে আসা আরেক বিক্রেতা জিয়ারুল অভিযোগ করেন, “আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু রশিদে সেই টাকার পরিমান উল্লেখ নেই।”
এ বিষয়ে বসুনিয়া হাটের ইজারাদার জাহিরুল ইসলাম বলেন, “রশিদ অনুযায়ী ৬০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন খরচের কারণে বর্তমানে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঈদ হাট উপলক্ষে সামনে ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য হাটে কোনো চার্ট টাঙানো হয়নি।”
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, 'বিষয়টি আমাদের জানা ছিলোনা। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।"
আরও পড়ুন:








