শনিবার

১৬ মে, ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সরকারিভাবে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কৃষকদের অনুষ্ঠানে নেই কৃষক, সমালোচনা

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ১৮:১৫

শেয়ার

সরকারিভাবে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কৃষকদের অনুষ্ঠানে নেই কৃষক, সমালোচনা
ছবি সংগৃহীত

শেরপুরে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে, কৃষকের স্বার্থে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেখা মেলেনি প্রকৃত কৃষকদের। ছিল গুদামের শ্রমিক ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে এ সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদলসহ প্রমুখ।

তবে, অনুষ্ঠানে কৃষকদের উপস্থিতি না থাকলেও খাদ্য গুদামের শ্রমিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কৃষকদের নিয়ে আয়োজন হলেও তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকরা যেন সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ। কোনো কৃষক যেন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান। একইসাথে জেলা খাদ্য বিভাগকে কৃষকদের সাথে স্বচ্ছ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন, নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন, নকলায় ১ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন, শ্রীবরদীতে ২ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন এবং ঝিনাইগাতীতে ১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

এছাড়া ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৯ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন, নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন, নকলায় ৩৩৮ মেট্রিক টন, শ্রীবরদীতে ৩৬৮ মেট্রিক টন এবং ঝিনাইগাতীতে ২ হাজার ৬১৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে, কৃষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে আমি তিনজন কৃষকের কাছ থেকে নিজে ধান সংগ্রহ করেছি। পরে তারা ছিলো কিনা, জানি না।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমিও খেয়াল করেছি। আমাকে তো বিভিন্ন দপ্তরের উপর নির্ভর করেই চলতে হয়। যারা উপকারভোগী তাদের থাকা দরকার ছিল। আপনার এই পরামর্শটি চমৎকার, আমি নোট করে রাখলাম।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি ভেবেছিলাম অনুষ্ঠানে কৃষক আছে। কিন্তু এখন শুনতেছি কৃষক ছিল না। আসলেই যে কৃষক ছিল না, এটা আমি জানতাম না। আমি এখনি ডিসি ফুড (জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক)কে বিষয়টি জানাচ্ছি।

সচেতনরা মহলরা জানান, যে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ, সেই আয়োজনেই কৃষকদের না থাকা বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা। মাঠের কৃষকদের বদলে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, অনেক সময় কৃষককেন্দ্রিক সরকারি আয়োজনগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তাছাড়া প্রধান অতিথিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন কাজ করেছেন আয়োজকরা, মন্তব্য সচেতন মহলের।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে কৃষক না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



banner close
banner close