সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে সংঘটিত গরুবাহী ট্রাক ডাকাতির প্রায় এক বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ডাকাতি হওয়া গরুগুলো রাজধানীকেন্দ্রিক একটি চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলোর মাংস বিভিন্ন অভিজাত সুপার শপে সরবরাহ করা হতো।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ এপ্রিল কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু কিনে পিকআপযোগে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল নিজেদের ব্যবহৃত পিকআপ দিয়ে গরুবাহী গাড়িটির গতিরোধ করে।
এসময় ডাকাতরা ট্রাকচালক, হেলপার ও গরুর রাখালকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরে গরুসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে তেমন অগ্রগতি ছিল না।
সম্প্রতি সলঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সদস্য মানিকগঞ্জের কুখ্যাত হাসান ওরফে রিপনকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে হাসান ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে লুট হওয়া গরুগুলোর অবস্থান ও বিক্রির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় সে।
তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতির পর গরুগুলো আশুলিয়ার এনায়েতপুর এলাকার জিয়া নামের এক খামারির কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই খামারি গরুগুলো জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপার শপে মাংস সরবরাহ করতেন।
এ ঘটনায় খামারি জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া হাসান ওরফে রিপন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:








