শনিবার

১৬ মে, ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

১৫১ কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ নেই, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ১৭:৫৭

শেয়ার

১৫১ কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ নেই, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
ছবি: বাংলা এডিশন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস ধরে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষধের আশায় প্রতিদিন ক্লিনিকে আসা রোগীরা ফিরছেন খালি হাতে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জেলার গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ১৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৬টি, শিবগঞ্জে ৫৬টি, গোমস্তাপুরে ২৪টি, নাচোলে ১৯টি এবং ভোলাহাটে ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাধারণ চিকিৎসা, মাতৃসেবা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেবার মান অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও প্রয়োজনীয় ঔষধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে জ্বর, সর্দি-কাশি, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ সাধারণ রোগের রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলার এক কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা হানিফা বেগম (৭০) বলেন, “আমি ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেসারের রোগী। খুব গরিব মানুষ। আগে সপ্তাহে দুই দিন এখানে এসে কিছু ঔষধ পেতাম। এখন নয় মাস ধরে কোনো ঔষধ পাই না। কিনেও খেতে পারি না।”

আদরী বেগম নামে আরেক নারী বলেন, “আমার স্বামী দিনমজুর। সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। অসুখ হলে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে কিছু ঔষধ পেতাম। এখন সেটাও বন্ধ। বাইরে থেকে ঔষধ কেনার সামর্থ্য নেই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএইচসিপি জানান, প্রতিদিন অনেক অসহায় নারী-পুরুষ ঔষধের আশায় ক্লিনিকে আসেন। কিন্তু ঔষধ না থাকায় কাউকেই কিছু দেওয়া যাচ্ছে না। এতে স্বাস্থ্যকর্মীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকই ছিল প্রাথমিক চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ঔষধ না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, আগে “অপারেশন প্ল্যান্ট” নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিতভাবে ৩৭ ক্যাটাগরির ঔষধ সরবরাহ করা হতো। পরে তা কমিয়ে ২২ ক্যাটাগরির ঔষধ দেওয়া শুরু হয়। তবে জুলাই আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কিছুদিন সীমিত আকারে ঔষধ সরবরাহ থাকলেও গত প্রায় ৯ মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে সিএইচসিপি কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু ঔষধ না থাকায় তারা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছেন না। ডা. কামাল উদ্দিন আরও বলেন, “অপারেশন প্ল্যান প্রকল্পটি মূলত কমিউনিটি ক্লিনিকের ঔষধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েই কাজ করতো। বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ থাকলেও একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। চালু হলে আবারও ঔষধ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বারবার অবহিত করছি।”

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম শাহাব উদ্দীন বলেন, “সাপ্লাই বন্ধ থাকার কারণে ঔষধ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই নতুন করে ঔষধ আসবে বলে আশা করছি।”



banner close
banner close