শনিবার

১৬ মে, ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শায়েস্তাগঞ্জে বাস মালিক সমিতির অবরোধ, আড়াই ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ১৫:২১

শেয়ার

শায়েস্তাগঞ্জে বাস মালিক সমিতির অবরোধ, আড়াই ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক
ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের বাস আটকে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে হবিগঞ্জ বাস-মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকরা। সাময়িকভাবে সিলেট বিভাগের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় মহাসড়কের ওপর বাস আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা থেকে সিলেটগামী এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

হবিগঞ্জ বাস-মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে হবিগঞ্জ–মৌলভীবাজার–সিলেট রুটে বিরতিহীনভাবে বাস চলাচল করছে। কিন্তু সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি পক্ষ হবিগঞ্জের পরিবহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে একাধিকবার হামলা, পাল্টা হামলা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, গত রোববার মৌলভীবাজারের শেরপুর সেতু এলাকায় হবিগঞ্জের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের মারধর করা হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে দুই জেলার মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে শনিবার সকালে আবারও মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের কয়েকটি বাস আটকে শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদেই শায়েস্তাগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন পরিবহন শ্রমিকরা।

অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে দুপুর আড়াইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকরা। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে পরিবহন শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।



banner close
banner close