পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামে স্থানীয় বাটা মালিকদের সহযোগিতা ও শ্রমিকদের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার ক্ষত বহন করা এই বেড়িবাঁধটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ও কৃষিজমি রক্ষার একমাত্র ভরসা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেড়িবাঁধটি। এতে সাগরের নোনা পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। ফলে বছরের পর বছর কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করেছে মেসার্স শাহনাজ ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স আরওয়ান ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ ও মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ। স্থানীয় শ্রমিকরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দিনব্যাপী কাজ করে বাঁধটি পুনর্নির্মাণে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেক মাতুব্বর বলেন, “সাগরের নোনা পানি ঢুকে আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এজন্য প্রায় এক বছর আমরা কৃষিকাজ করতে পারিনি। এখন বাঁধ পুনর্নির্মাণ হওয়ায় আবার কৃষিকাজ শুরু করার আশা করছি।”
আরেক বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, “আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বেড়িবাঁধ। এটি ভেঙে যাওয়ায় রোগী নিয়ে চলাচল করতেও অনেক কষ্ট হতো। এখন আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাবে।”
স্থানীয় কৃষক জালিস মাহমুদ বলেন, “আমাদের নিত্যদিনের কাজ কৃষিকাজ। এই বেড়িবাঁধ অচল থাকায় আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলাম। বাঁধটি পুনর্নির্মাণ হওয়ায় নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।”
স্থানীয়রা জানান, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে বাটা মালিকদের সহযোগিতা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একদিকে মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে, অন্যদিকে কৃষিজমি রক্ষার নতুন আশা তৈরি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








