নাচ-গান করার অপরাধে এক নারীর মরদেহ দাফনে আপত্তি তোলে স্থানীয়রা। পরে মহল্লাাবাসীর সমঝোতায় রাতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় এক নারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। তবে মরদেহ পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি জানায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আপত্তি ছিল বলে দাবি করা হয়। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। অবশেষে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাত ১০ টার দিকে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
আরও পড়ুন:








