ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী রীনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে ২০২৬ খ্রি. শর্শদী ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রীনা আক্তার তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহটি ভবনের পাশে থাকা বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনায় নিহতের পুত্র মহরম আলী বাদী হয়ে ১৩ মে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৩৯) দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মো. মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং ফেনী পিবিআই-এর পুলিশ সুপার জনাব উক্য সিং, পিপিএম-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পিবিআই জানতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তি চট্টগ্রামে আত্মগোপন করে আছেন। ১৪ মে ২০২৬ খ্রি. দুপুর ১২.১৫ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকার রূপসী পাহাড় থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শর্শদী ইউনিয়নের জমাদার বাড়ীর আবুল খায়েরের পুত্র।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি সাইফুল জানান, কিস্তির টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি এই পরিকল্পনা করেন। ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার কানের দুল লুণ্ঠন করেন এবং তা মোহাম্মদ আলী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে ১৫,৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে।
পিবিআই ফেনী জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব কাউসার আলম ভূঁইয়া মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন:








