সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ইলিশ জব্দ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য আড়ৎদাররা। তাদের দাবি, বৈধভাবে নদী থেকে আহরিত মাছ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
জানা যায়, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বুধবার রাতে জেলা শহরের পানপট্টি বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য বিভাগ। অভিযানে সামরাজ মাছ ঘাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ
জব্দ করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ হওয়া মাছের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
স্থানীয় জেলে ও আড়ৎ মালিকদের দাবি, জব্দ করা মাছ সাগর থেকে নয়, নদী থেকে আহরণ করা হয়েছে। এ দাবির পক্ষে তারা চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য বিভাগের দেয়া অনুমতিপত্র ও স্বীকৃতিপত্র প্রদর্শন করেছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে নির্দিষ্ট তারিখে নদী থেকে আহরিত মাছ বাজারজাত ও পরিবহনের অনুমতির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করেছি। মৎস্য বিভাগের অনুমতিও নিয়েছি। এরপরও অভিযান চালিয়ে মাছ জব্দ করা হয়েছে। এতে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, যদি অবৈধভাবে সাগরে মাছ আহরণ হয়ে থাকে, তাহলে সাগরে নজরদারি ও অভিযান জোরদার না করে বাজার ও সড়কপথে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কতটা যৌক্তিক—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মৎস্য বিভাগের দেয়া অনুমতিপত্রেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে সংশ্লিষ্ট মাছ নদী থেকে আহরণ করা হয়েছে এবং তা পরিবহনের বৈধ অনুমতিও দেয়া হয়েছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও মাছ জব্দ করার ঘটনায় তারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। জব্দ করা মাছের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কেউ বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেন, সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
তবে এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিতভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন, যাতে বৈধ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন এবং একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আইনও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়।
আরও পড়ুন:








