দেশীয় শ্রমনির্ভর বিড়ি শিল্প টিকিয়ে রাখতে পাঁচ দফা দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। বুধবার বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বিড়ির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধি, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি, লাইসেন্সধারী বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশীয় বিড়ি শিল্পের সঙ্গে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবিকা জড়িত। কিন্তু নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির প্রতিযোগিতার কারণে শিল্পটি সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী অনেক বিড়ি কারখানা উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের বড় একটি অংশ নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে চলে যাওয়ায় বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
নকল বিড়ি উৎপাদনের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদনকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম এবং শ্রমিক নেতা সোহেল রানাসহ অন্যান্য নেতারা।
আরও পড়ুন:








