সোমবার

১১ মে, ২০২৬ ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে উখিয়া-টেকনাফে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ১৯:৩৩

শেয়ার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে উখিয়া-টেকনাফে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উৎপন্ন বর্জ্যে স্থানীয়দের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে এসব জমির বড় অংশ এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)।

বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের অনুমোদন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবং উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বড় ধরনের বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তাদের দাবি, বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্প ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। জেলার বাইরে থেকে নিয়োগের প্রবণতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় গঠিত আরসিটি কাঠামোতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সিসিএনএফ নেতারা বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়, যা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয় জনগণকে বাস্তব তথ্য জানাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করারও দাবি তোলা হয়।

সিসিএনএফের দাবি, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে, সে তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close