রবিবার

১০ মে, ২০২৬ ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

পদ্মায় বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬ ২০:০৩

আপডেট: ১০ মে, ২০২৬ ২০:০৪

শেয়ার

পদ্মায় বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দোভাগী এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চর জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামোজগন্নাথপুর-দোভাগী এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা মাদক মামলায় গ্রেফতার কৃষক মো. ইশারুল হকের মুক্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পদ্মা নদীর চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কথিত সোর্স আনারুল ইসলাম ষড়যন্ত্র করে ইশারুল হককে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছেন। প্রায় তিন মাস আগে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে কয়েকজন শ্রমিক নৌকাযোগে দক্ষিণ দোভাগী এলাকায় গেলে মনোহরপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদের বহনকারী নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৯৬০ গ্রাম হিরোইন উদ্ধারের দাবি করে ইশারুল হককে আটক করে। পরে ৫৩ বিজিবি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইশারুল হকের স্ত্রী রিমা বেগম। তিনি বলেন, “আমার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক। কৃষিকাজ করে সংসার চালান। বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হিরোইন দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।”

ইশারুলের বাবা এনামুল হক বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ। ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার মুক্তি চাই।” এছাড়া বক্তব্য দেন ইশারুলের মা গোলেনুর বেগম, শুকরিয়া বেগম, শামীম রেজা, রুবেল, হারুন অর রশিদ ও মামুন অর রশিদসহ স্থানীয় আরও অনেকে।

তবে অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে মাদক মামলায় ফাঁসাইনি। প্রশাসনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজম আলী বলেন, “ইশারুল একজন কৃষক। ঘটনাটি আমার কাছে সাজানো মনে হয়েছে। প্রকৃত তদন্ত ছাড়া তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নৌকা থেকে হিরোইন উদ্ধার করা হয়। পরে ইশারুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”#



আরও পড়ুন:

banner close
banner close