মাদকের মরণকামড় থেকে দেশকে বাঁচাতে সরকারের ঘোষণা ‘জিরো টলারেন্স’। গত ৩০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন দেশব্যাপী সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানের। সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশের চোখ-কান হয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার রায়পুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম। কিন্তু কে জানত, দেশপ্রেম আর সততার পুরস্কার হিসেবে তাকেই পরতে হবে হাতকড়া!
অভিযোগ উঠেছে, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে চলছে ভয়ংকর 'টাকা বাণিজ্য'।বড় কোনো চালানের তথ্য দিলে, মাদক কারবারীদের সাথে রফাদফা করে উল্টো তথ্যদাতাকেই বলির পাঁঠা বানাচ্ছে পুলিশ।
গত শনিবার, ঠিক এমনটাই ঘটেছিল রফিকুলের সাথে। ইয়াবার বড় একটি চালানের তথ্য ওসিকে দেয়াই কাল হলো তার। অভিযোগ আছে, মাদক কারবারিদের সাথে আর্থিক লেনদেন দেখে ফেলায় রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, আর ছেড়ে দেয়া হয় মূল অপরাধীদের।
এর আগে, রফিকুলের তথ্যের ভিত্তিতে মাধবপুর থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ শান্তি নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া, পশ্চিম বারান্দীর বিল্লালের ক্ষেত থেকে গাঁজা গাছ জব্দ এবং করচাডাঙ্গা থেকে ৪'শ গ্রাম গাঁজাসহ আখেরকে গ্রেপ্তারের মতো একাধিক সফল অভিযান চালিয়েছিল জীবননগর থানা পুলিশ।
তবে এই সফলতাই শত্রু বাড়িয়ে দেয় রফিকুলের। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ইন্ধনে গত শনিবার রাতে তাকে সাক্ষী দেয়ার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে যায় এসআই হাসান ও সবুর। এরপরই ঘটে সেই নাটকীয় মোড়! আন্দুলবাড়ীয়া এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত চোরাই মদের মামলায় তাকে বানানো হয় ৫ নম্বর আসামি।
এদিকে, জীবননগর থানার ওসি সুলাইমান শেখ ও আসামী রফিকুলের একাধিক কল রেকর্ড বাংলা এডিশনের কাছে এসেছে। ওই কল রেকর্ড থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সুলাইমানের সোর্স হিসেবে তাকে সহযোগিতা করেছে রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয়দের মাঝে এখন তীব্র ক্ষোভ। প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের সাথে ওসি সোলাইমান শেখসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার কোটি টাকার লেনদেনের জনশ্রুতি এখন জীবননগরের ওপেন সিক্রেট। ফলে, পুলিশের চোখ-কান হওয়া স্বত্বেও, সোর্সই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিহিংসার শিকার।
বিষয়টি নিয়ে, জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি, রফিকুল ইসলামকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাই, সোর্স হিসেবে কাজ করলেও আটক করা হয় রফিকুলকে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার এই জনপদ এখন মাদকের অভয়ারণ্য। কিন্তু, যখন রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? রফিকুলকে ফাঁসানোর এই ঘটনা কি বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল, নাকি জীবননগর থানার ওসির মাদক বাণিজ্যের সুপরিকল্পিত কোনো নীল নকশা? উত্তর খুঁজছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ জনতা।
আরও পড়ুন:








