আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-এর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কাখাবের বেনিধজে। তিনি কোম্পানির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীষা আব্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। মনীষা আব্রাহাম বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে৷ গোপনে বাংলাদেশ ত্যাগের পায়তারা করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মনীষা আব্রাহামের বিরুদ্ধে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোট চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার বিএটিবি কারখানায় শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে খুলনা শ্রম আদালতে একটি মামলা এবং রংপুর ও গাইবান্ধার লিফ ডিপোতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় রংপুর শ্রম আদালতে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় মনীষা আব্রাহামকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে কোম্পানির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে মনীষা আব্রাহামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, কোম্পানি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মনীষা আব্রাহাম দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে বিচারাধীন অবস্থায় সরকারের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলার প্রধান আসামি সরকারের ছাড়পত্র ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া লিফ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাও আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মানায় গত বছর শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে টানা ২৭ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, তাদের নিয়োগপত্র প্রদান, স্থায়ীকরণ এবং কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।
শ্রমিকদের সাথে কথা কথা বলে জানা গেছে, ওই সময় বেশকিছু পত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ার কারণে সরকার এবং বিএটির কর্তৃপক্ষের নজর কারে যার ফলে শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে কিছু দাবি এবং সুবিধা প্রদান করে তাদেরকে পুনরায় চাকরিতে বহাল রাখে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার শ্রম পরিদর্শক মোহা. ফারজুন ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা শ্রম আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি মনীষা আব্রাহাম যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন এমন খবর শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিএটিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এমডি কাখাবের বেনিধজের নেতৃত্বে কোম্পানির উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কার্যক্রম ভবিষ্যতে পরিচালিত হবে। তবে শ্রমিকদের দাবি ও মামলার বিষয়গুলো নিয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








