চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের শংকরচন্দ্র গ্রামে সালিশ বৈঠকের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলিমদ্দীন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত প্রায় ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের মারধরের ফলে আলিমদ্দীন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত রসুল ফকিরের ছেলে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিনেও টাকা পরিশোধ না করায় জিয়াউর রহমান একাধিকবার পাওনা টাকা ফেরত দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সময়ক্ষেপণের একপর্যায়ে আরিফ পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এ অবস্থায় পাওনা টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার রাতে জিয়াউর রহমান ও তার স্বজনরা আরিফের ছেলেকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।
এ সময় আরিফের বাবা লিয়াকত আলী, ছোট ভাই আল-আমিন ও মা জেসমিন খাতুনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের চাচা ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে আলিমদ্দীনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লিয়াকত আলী, আল-আমিন ও জেসমিন খাতুন মিলে আলিমদ্দীনকে মারধর করেন। এতে তিনি বুকে গুরুতর আঘাত পান।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটক দুজনকে হেফাজতে নেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের কাজ চলছে। এ ঘটনায় লিয়াকত আলী (৬৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন:








