শনিবার

৯ মে, ২০২৬ ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরী চক্রের সন্ধান; চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সহযোগী আটক

চুয়াডাঙ্গা, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬ ১৭:২৫

শেয়ার

ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরী চক্রের সন্ধান; চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সহযোগী আটক
ছবি: বাংলা এডিশন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন।

অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেয়া হতো। পরে এসব জন্মসনদ দিয়ে এনআইডি কার্ড তৈরী করতো সুবিধাভোগীরা। রোহিঙ্গারাও রযেছে এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে, যখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চিনেন না। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এরপর শুক্রবার দিনগত রাতে তাদের আটক করে দর্শনা থানা পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের নির্দেশে সহকারী কমিশনার ( ভুমি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে আজ শনিবার অভিযুক্তদের নামে মামলা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, এটা আমাদের রাস্ট্রের নিরাপত্তার হুমকি। জেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চলবে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।



banner close
banner close