বগুড়ার সদর উপজেলায় লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতক সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মা ও তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেছে।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোছাঃ নিপা আক্তার ও তার বর্তমান স্বামী মোঃ দুলাল মিয়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপা আক্তারের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের ১৫ রমজানে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুর আলমের ছেলে দুলাল মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে নিপা একটি সন্তান প্রসব করেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতকের গলায় ব্লেড চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর শিশুটির মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। শনিবার দুপুরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টার দিকে এলাকাবাসীর মুখে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে জানতে পারি, ওই নারীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আগের স্বামীর সন্তান হওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন:








