শুক্রবার

৮ মে, ২০২৬ ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

বাগেরহাটে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ৪০ লাখ টাকার মাছ নিধনের দাবি

বাগেরহাট প্রতিনিধি।

প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬ ১৪:৩২

শেয়ার

বাগেরহাটে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ৪০ লাখ টাকার মাছ নিধনের দাবি
ছবি সংগৃহীত

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের সাহেবাহার পেতনিমারা বিলে একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঘের মালিক মো. ইয়ামিন শেখ (৩০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইয়ামিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে সাহেবাহার পেতনিমারা বিলে প্রায় ৩০ তেকে ৪০ বিঘা জমির ওপর গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন। অভিযুক্তরা পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে ঘের থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল উজলপুর বাজারে ধানে পানি দেওয়াকে কেন্দ্রকরে প্রকাশ্যে অভিযুক্তরা ঘেরে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেয়। পরে ৭ মে রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে যে কোনো সময়ে দুর্বৃত্তরা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। সকালে ঘেরে গিয়ে ইয়ামিন শেখ দেখতে পান, গলদা ও বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আলামিন মোল্লা ও মো. এনামুল শেখসহ ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ঘের মালিক।

ঘের মালিক ইয়ামিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, বিষ প্রয়োগে তার প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও জানান।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রিয়াজ শেখ বলেন, আমাদের সামনেই তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে। এক পর্যায়ে মো. আলামিন মোল্লা ও মো. এনামুল শেখ বলেছে, ইয়ামিন শেখের ঘেরে বিষ ওষুধ দেওয়া হবে। তবে কে দিয়েছে সেটা জানি না, তবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা হাকিম শেখ বলেন, গত ২০ বছরের মধ্যে এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ইয়ামিনের প্রায় ৪০ বিঘা ঘেরে বিষ প্রয়োগে মাছ মারা গেছে এসে দেখছি। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আলামিন মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, অনেকদিন আগে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তবে আমি কোনো হুমকি দেইনি। অন্য একজন ধানে ওষুধ দেওয়ার কথা বলেছিল, সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##



banner close
banner close