নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ফেসবুকে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড নেতার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী মো. জহুরুল ইসলাম উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মোবারক আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত আরিফ ইসলাম একই এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে এবং ঠাকুরগাঁও সদর টিএনটি অফিসে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আরিফ ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মোহাম্মদ জহুরুল আলী শাহ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এক বিধবা নারী আয়েশা খাতুনের জমি বেদখল করে দখলে রেখেছেন।
এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, একটি পারিবারিক বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করে তার ব্যক্তিগত ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে কোনো জবরদখলের ঘটনা ঘটেনি এবং অভিযোগে উল্লেখিত আয়েশা খাতুন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের সঙ্গে পূর্ব থেকেই রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে।
জমির মালিক হিসেবে উল্লেখিত আয়েশা খাতুন বলেন, তার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে তার কোনো বিরোধও নেই। এছাড়া কাউকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্যও তিনি বলেননি বলে জানান।
ডোমার উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল হক বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত আরিফ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জহুরুল ইসলামকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আরিফ ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এবং তার দাবি অনুযায়ী বিষয়টি সত্য। এ ঘটনায় তিনিও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
ডোমার থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








