বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবাধ বন উজাড় ও কাঠ পাচার

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ১৮:৩৯

শেয়ার

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবাধ বন উজাড় ও কাঠ পাচার
ছবি সংগৃহীত

শেরপুরের গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। অবৈধ কাঠ পাচারকারীরা দিনের আলোয় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুসারে, বন বিভাগের উদাসীনতা ও সম্ভাব্য যোগসাজশের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।

শেরপুর জেলার গারো পাহাড় এলাকায় প্রতিদিন মূল্যবান গাছ কাটা ও অবাধ কাঠ পাচার চলছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা বনের ঘনত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে হাতি, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে লোকালয়ে নেমে আসছে। এতে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উভয় পক্ষের জন্য প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন উজাড়ের বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও বন বিভাগ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে পাচারকারীদের যোগসাজশ রয়েছে। এ কারণে প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করেছেন, এভাবে বন ধ্বংস চলতে থাকলে গারো পাহাড় তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবে। গাছশূন্য পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকট মোকাবিলায় বন বিভাগের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক বন সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close